ত্রিদিব হালদারের চায়নার ‘গ্রেটওয়াল’ ভ্রমণ ও কিছু অভিজ্ঞতা

0 5

প্রথম থেকেই প্ল্যান ছিল অফিসিয়াল মিটিং শেষ করে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি কাজে লাগাবো, বেইজিং এর গ্রেট ওয়াল দেখবোই এবার। সপ্তম আশ্চর্যের এটি একটি, তাই এত কাছে এসে ওটা দেখতে না পারাটা জীবনের অপূর্ণতারই অংশ হিসেবে যুক্ত হবে। চীনের সাংহাই শহরে এর আগেও গিয়েছি কিন্তু বেইজিং যাওয়া হয়নি কখনো।

মনে আছে ২০১৬ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে যখন প্রথম চায়নাতে গিয়েছিলাম তখন ওদের ত্রিশ বছরের ইতিহাসে আবহাওয়া শূন্যের নীচে ছিল ঐ প্রথম। আমি মাইনাস পাঁচ থেকে দশ ডিগ্রীর অভিজ্ঞতা নিয়েছিলাম তখন। এতটা টাইট সিডিউল ছিল যে কোথাও ঘোরার তেমন সময় পায়নি তখন। সুযোগ তো এবার কাজে লাগাতেই হবে।

১৬ই নভেম্বর ২০১৭ টানা এক সপ্তাহ মিটিং, ফেক্টরী ভিজিট শেষে আমি, প্বার্থ ও নাভিদ বেজিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিব। সেকি অনুভূতি তিনজনের, উত্তেজনায় অস্থির সবাই। অফিসের এমন কোন কলিগ ছিল না যে আমাদের যাত্রার কথা শুনেনি, তাই নানা ভাবে যে যেভাবে পেরেছে এডভাইস দিয়েছে।

ফ্লাইট আমাদের রাত এগারোটায়, সাংহাই সিমেন রোড থেকে সব চেয়ে কাছের এয়ারপোর্টে এয়ার লাইন্স পছন্দ করেও দুই ঘন্টা দূরত্ব কিছুতেই এড়ানো যায়নি। মানে হলো এগারোটায় ফ্লাইটের রিপোর্টিং টাইম রাত নয়টায় এবং আরও দুই ঘন্টা আগে রওনা দিতে হবে। অফিস থেকে ছয়টায় বেরিয়ে হোটেল থেকে ব্যাগ গুছিয়ে সাড়ে ছয়টায় নিচে নামলাম তিন জন। চীনে টুরিস্টদের সবচেয়ে বড় সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি হলো ওরা ল্যাংগুয়েজ বুঝতে না পারা, এবং শুধু তাই নয় ওরা নাম গুলো ও ওদের ভাষায় বলবে। টেক্সি চালককে এয়ারপোর্ট বললে ও বুঝবে না । যদি আমার নাম ‘ত্রিদিব’ বলি ওরা ওদের ভাষায় অন্য ভাবে উচ্চারণ করে যেটা ওদের ভাষা যারা না বোঝে, ধরাটা মোটেও সম্ভব নয়। তাই হোটেলের রিসিপশনিস্ট এর সাহায্যে এদিক ওদিক করে চল্লিশ মিনিট পর একটি টেক্সি পেলাম।

টেনশনে তিনজনই নানা মুহূর্ত মনে করে হাসাহাসি করছিলাম কিন্তু ভিতরে একটাই চিন্তা এত জ্যাম যদি মিস হয়!! তাই বার বার নিজেরাই বলছি ব্যাপার না অন্য ব্যাবস্থা করা যাবে। অথচ টিকেট বুকিং এর আগে নরমাল ট্রেন ও দ্রুতগামী ট্রেন এর সময় ও খরচ সমস্ত কিছু এনালাইসিস করে প্লেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এটাই যদি মিস হয়!! এদিকে সাংহাই হোটেলে ও চেক আউট করে ফেলেছি ফিরেও যেতে পারবো না, কি হবে তখন !! কিন্তু সবাই এমন ভাবে কথা বলছি যেন এটা কিছুই নয়।

তখনো ও জানি না কোন দিক দিয়ে যাবো।

না, দেড়ি হয় নি, সময় মতই পৌঁছালাম আমরা। সাংহাই থেকে বেইজিং ফ্লাইটে তিন ঘন্টার পথ। বেইজিং এয়ারপোর্টে নেমে প্রথম যে ধাক্কাটা খেলাম তা হলো ওদের অগোছালো সব কিছু দেখে। সাংহাই শহর এত ঝকঝকে তকতকে, এত ফ্লাইওভার, এত উঁচু উঁচু সাজানো বিল্ডিং মনে হয় এর তুলনায় বেইজিং অনেক পুরোনো কিছুটা নোংড়া আর তেমন কোন চোখে পড়ার মত উঁচু বিল্ডিং ও দেখেনি।

বেইজিং এর হোটেলে আগেই বুকিং দিয়ে রেখেছিল প্বার্থ তাই ফরবিডেন সিটির ঐ হোটেলে রাত সাড়ে তিনটার দিকে উঠলাম আমরা। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে রাতের বেইজিং দেখার সৌভাগ্য ও হলো আমাদের। বেইজিং এর লোক জন মনে হলো কথা বলাতে আরো অপারগ সাংহাই সিটির তুলনায়। আমরা যেটা করি সাংহাই সিটিতে তা হলো প্রতিটি ঠিকানা যেখানে যেতে চাই, চাইনিজ ল্যাংগুয়েজে তা কনর্ভাট করে নেই। মজার ব্যাপার হলো ওদের ক্যাবে একবার কিছু না বলে উঠে পরার পর ঠিকানাটা দেখালে ওরা সেখানে যেতে বাধ্য। ‘না’ বললে পুলিশকে কমপ্লেন করলে ওদের জরিমানা দিতে হয়। তাই বেইজিং এ ও এই পন্থাটা কাজে লাগালাম।

আমরা হোটেলে ঢোকার সময়ই জেনে নিয়েছি গ্রেটওয়ালে যাওয়ার বিস্তারিত। ওখানে অনেক গুলো পয়েন্ট আছে গ্রেটওয়ালের, কিন্তু সব চেয়ে বড় ও কাছের স্পটে যেতে ও প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা সময় লাগে তাই সকাল সাতটায় আমাদের রওনা দিতে হবে। তাই ফ্রেস হয়ে দুই ঘন্টা ঘুমিয়ে নিয়েছি।

বেইজিং এ তখন তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রী কিন্তু ফিলিং লাইক মাইনাস দুই ডিগ্রী। আমি আগেই তাপমাত্রা জেনে এসেছিলাম তাই জামা কাপড়ের প্রিপারেসান ওভাবেই নিয়ে গিয়েছি।

যতটুকু পড়ে জেনেছি খৃষ্টপূর্ব প্রায় সাতশত বছর আগে পাহাড়ী মঙ্গোলীয়ানদের হাত থেকে চায়নীজদের রক্ষার জন্য এ প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল। তখনই প্রায় পাঁচ হাজার পাঁচশত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রাচীর টি তৈরি হয় যা পরবর্তীতে আর বর্ধিত হয়েছিল খৃষ্টপূর্ব দুইশত সাত সালের পর যখন কুইন ডাইনেসটি স্বাসক ছিলেন। তবে ওদের অফিসিয়াল রেকর্ডে দৈর্ঘ্য আর বেশি কিলোমিটার এর কথা বলা হয়। প্রায় এক মিলিয়ন শ্রমিক এটি বানাতে কাজ করেছেন, এবং এটি বানাতে প্রায় চার লক্ষের ও বেশি লোক মারা গিয়েছিল। অনেক শ্রমিকের কবর ও আছে এই প্রাচীরের নিচে। মূলত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা ও ওখান থেকে শত্রু দের প্রতিহত করাই ছিল এ প্রাচীরের মূল উদ্দেশ্য। এই প্রাচীরই আমরা দেখতে যাচ্ছি, ভাবতেই গাঁ টা শিওড়ে উঠছে। ওখানেই শুনেছি, যে কাররই পূর্ব পুরুষের পরিচয় ঘাটালে দেখা যাবে তাঁরাও প্রাচীর নির্মানে সাহায্য করেছে।

স্টোন মিউজিয়ামের সামনে

গাড়ীর ভিতরে বোঝা যাচ্ছে না বাহিরে কি পরিমান ঠান্ডা হতে পারে। শুধু কয়েকবার দেখেছি বিস্তর মাঠে যেন সাদা ধবধবে কাগজ পড়ে আছে। আমি বলেছিলাম এগুলো বরফ কিন্তু নাভিদ ও প্বার্থ কিছুতেই মানলোনা ওগুলো বরফ হতে পারে।

পাহাড়ি পথে ঢুকে পড়েছি আমরা, তারমানে হলো কিছুক্ষণ পরেই হয়ত ওয়ালের দেখা পাবো। যতই এগুচ্ছে মন প্রান যেন চাইছে দূর থেকে কখন দেখবো ওয়ালটা। এত বড় দৈর্ঘ্যের আশা ছিল অনেক আগে থেকেই দেখতে পাব, কিন্তু না কিছুতেই দেখছি না। শুনেছি এই প্রাচীরটিই চাঁদে থেকে যখন ছবি তোলা হয়েছিল পৃথিবীর তা দেখা গিয়েছিল, আর এটা বারবারই মনে হচ্ছিল তখন। ঘন্টা খানিক পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে আমরা গাড়ির পার্কিং এ ঢুকলাম। নাহ্, তখনও দেখছি না ওয়ালটা। এবার সবাই মানলাম আমরা আসতে মাঠে যে কাগজের মত দেখেছিলাম ওগুলো বরফই ছিল। তাপমাত্রা এখানে মাইনাস টু এবং ফিলিং হলো মাইনাস নাইন, উহ্ ভাবা যায়।

আমরা তখন ও জানি না কোন দিকে কিভাবে যাবো, শুধু জানলাম টিকেট কাটতে হবে। ওখান থেকে টিকেট কাটলাম। প্রাচীর দেখা গেলে তাও ওটা ধরে এগুনো যেত কন্তু তাও তো যাচ্ছে না, কি করি!! কেউ তো ইংরেজী ও বোঝে না, কি মুশকিল!!! কোন দিকে যাই!! কিছুক্ষন পর দেখি একজন ভদ্রলোক ও একজন ভদ্রমহিলা একটি চাইনিজ মেয়ের সাথে ইংরেজীতে কথা বলছেন। কাছে গিয়ে জানলাম মেয়েটি আসলে ট্যুর গাইড, যাদেরকে নিতে হলে আলাদা দুই শত ডলার পে করতে হবে, ধুৎ আবার টাকা খরচ!

ওনাদের সাথে কথা বলে গাইডকে ফলো করা শুরু করলাম। যদি ওয়াল টা দেখতে পাই তবে দুই শত ডলার দেয়ার কোন মানেই হয় না। কথা প্রসঙ্গে জানলাম ওই দুজন ইংলেন্ডের, এরই মধ্যে অনেক আলাপ হয়ে গেল। গাইড মেয়েটি থেকেও জেনে নিলাম যাওয়ার পথ। প্রথমে বাসে যেতে হবে পাঁচ মিনিটের মত। তার পর ক্যাবেল কার। আমাদের কাজ হয়ে গেল।

ক্যাবল কারে উঠতেই প্রাচীর টির প্রথম দর্শন পেলাম, আহ্ জীবনে আরেকবার মনে হলো পূর্ণতা এসেছে। স্বার্থকতা তো এখানেই, এটা না দেখে গেলে মরনেও তো শান্তি হতো না। মনে মনে প্রথমে যে ভাবনা টি এলো তা হলো এত উপরে বিভিন্ন উপকরণ কিভাবে তখন নিয়েছিল!! যেন স্বর্গে যাওয়ার সিড়ি বানানো হয়েছে। ক্যাবল কার থেকে নেমে আরেকটি চেক পয়েন্ট পার হয়ে আস্তে আস্তে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠছি, মনে হচ্ছে বিশ্ব জয়ের আরেক ধাপ এগিয়ে গেলাম।

এত প্রশস্থ দূর থেকে দেখে বোঝা যায়নি।

প্রচীরের ভেতর এত প্রশস্ত তা আগে বোঝা যায়নি, মাঝে ছোট ছোট ফাঁকা যেগুলোতে সৈন্যরা অস্ত্র বসিয়ে শত্রুদের দিকে নিশানা কাত করতেন। দূরের পাহাড় থেকে পাহাড়িরা (মঙ্গলিয়ানরা) আক্রমন চালাত আর এ ওয়ালে থাকা সৈন্যরা তা প্রতিহত করতেন। দূরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল এ বুঝি আবার আক্রমন হলো বলে। নাভিদ, প্বার্থ, আমি সবাই তখন ছবি তোলাতে ভিষণ ব্যস্ত আর তখন সেই গাইড ও দুজনের সাথে আবার দেখা হলো, ভাবছি এখানে ইংরেজী ভাষা জানলে গাইডের কাজ করাটা কত সহজ। আসলে অজানা কে একবার জানা হয়ে গেলে তখন তা খুবই সহজ মনে হয়। অথচ কিছুক্ষন আগে ও এখানে কিভাবে আসবো পথ চেনার জন্য কত কিছুই না ভাবতে হয়েছে আমাদের।

ঘরের ভিতর জানালা। যেখানে বড় অস্ত্র দিয়ে নিশানা ঠিক করা হতো।

একে তো কনকনে ঠান্ডা বাতাস তার উপর ছবি তোলার হিড়িক, হাত গুলো যেন যমে বরফ হয়ে যাচ্ছিল। কিছু দূর পেরুতেই ছোট একটি ঘরের মতন ভেতর দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার রাস্তা আছে। ওটা আসলে সৈন্যদের বিশ্রাম ও বড় বড় অস্ত্র রাখার স্থান ছিলো।

গুহার মত ঘর গুলো।

আর এ ঘর গুলো প্রাচীরে কিছু নির্দিশ্ট দূরত্বে দেওয়া আছে। ভেতরে ঠান্ডাটা একটু কম কিন্তু যেখানে জানালার মতন আছে মানে ওখানে বড় অস্ত্র গুলো কাত করতো সৈন্যরা, ওখানে দাড়ালে মনে হচ্ছিল যেন কান গুলো শক্ত বরফ হয়ে গেছে, এত হিম্ বাতাস অথচ ঝিকিমিকি রোদ তখনো জ্বলজ্বল করছে।

এভাবেই চলে গেছে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ। মাঝে মাঝে এই ফাঁক গুলো, যেখানে অস্ত্র কাত করতো শত্রুর দিকে।

নাভিদকে নিয়ে একটু ভয় পেয়েছিলাম, ও আসলে ধারনা করতে পারেনি এখানে এত ঠান্ডা হতে পারে। তবে ওর ছবি তোলার অস্থিরতা দেখে মনেই হয়নি হিম্ বাতাস ওকে কিছু করতে পারছে। দুই ঘন্টা ওখানে কাঁটিয়ে নিচে নামলাম। আমি আর প্বার্থ দুটো বিয়ার নিয়ে খেতে খেতে যাচ্ছি, আমার হাতে গ্লাবস্ পরা সত্বেও মনে হচ্ছে হাতটা জমে যাচ্ছে, অথচ প্বার্থের হাতে কোন গ্লাবস্ নেই। বিয়ারটা ধরে রাখতেই কষ্ট হচ্ছে হাতে। একবার বলেই বসলো দাদা আপনার গ্লাবস্ টা একটু দিন, বেচারা বড় মায়া হলো।

যতোদূর চোখ যায় শুধুই এই পথ।

আমাদের ড্রাইভারের মোবাইলে একটি এপস্ আছে যেখানে ইংরেজীতে কথা বললে অটো চাইনিজ ল্যাংগুয়েজে ট্রান্সলেট হয়ে যায়। এতে আমাদের একটু সুবিধা হলো। পথে আর কিছু দর্শনীয় স্থান দেখে সন্ধ্যার দিকে হোটেলে পৌঁছুলাম। সত্যি বলতে কি যেখানে গ্রেটওয়াল দেখা হয়ে গেছে সেখানে অন্য কিছু আর ভাল লাগবে দেখে ? না, ফরবিডেন সিটিতে থেকেছি বলে ওটার ভেতরটাও কিছুটা দেখা হয়ে গেল।

আমরা কিছুটা বিপাকে পড়েছিলাম যখন ওখানে সপিং এ গিয়েছি, হোটেল থেকে যায়গা গুলোর নাম ট্রান্সলেট করে নিয়েছি। কিন্তু ও গুলো ছাড়াও যখন অন্য একটি মলে গেলাম ফেরার পথে আর কোন ক্যাব পাচ্ছি না, একেতো ঠান্ডা তার উপর ধুলি ঝড়, মনে হচ্ছে যেন জমে যাচ্ছি। একবার রাস্তার এপার আরেকবার ওপার। প্বার্থ ও নাভিদের সর্টকার্ট চায়নিজদের মতন ইংরেজী শুনে এর মধ্যেও হাসি থামানো যায়নি। শেষে একটি ক্যাব দেখেই কোন কথা না বলে ভিতরে ঢুকে বসলাম, হোটেলের এড্রেসটা দেখাতেই ও আমাদের কিছু না বলে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে।

ডিনারের ম্যানু এবার পেকিং ডাক। বেইজিং এসেছে অথচ এটি খাননি এমন ট্যুরিস্ট খুবই কম আছে। এ হাসের ও ইতিহাস আছে। এটি প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল বারশ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি তে। অর্থাৎ ১২৬১ থেকে ১৩৬৭ সাল জেংগিস খানের (আমরা যাকে চেংগীস খাঁন বলি) নাতী কুবলাই খাঁনের স্বাশন আমলে। তখন মোগলদের রাজত্ব ছিল এবং ইম্পেরিয়াল আইটেম হিসাবে এই পেকিং ডাক ব্যবহৃত হতো। আর তখন থেকেই বিভিন্ন দেশের রাজ প্রধানরা ওখানে গেলে এটা দেওয়া রীতি মত সম্মান সূচক ব্যাপার ছিল। চামড়া সহ ছোট টুকরো একটু ক্রিস্পি হতে হবে। এ হাস গুলো কিন্তু জলে নামে না। বাড়ির ভেতর এগুলোকে শখ করে অনেকেই পুশে থাকেন। তাই খেতে খুবই সুস্বাদু। যেন অমৃত খাচ্ছি তিন জনেই। জীবনে অনেক কিছুই খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু এটা যেন সত্যি অসাধারণ মনে হচ্ছে। সত্যি বেইজিং ট্যুর এবার পরিপূর্ণ হলো।

জীবনের মানে তো শুধু বেঁচে থাকা নয়, কিছু উপভোগ্য বিষয় এর মধ্যে না থাকলে এর কোন মানে নেই, অতৃপ্তিটা থেকেই যায়। তিনজনই স্বার্থক আমরা, এ যাত্রা সারাজীবন সুখকর স্মৃতির মধ্যে থেকে যাবে।

লেখা ও ছবিঃ ত্রিদিব হালদার