রাজধানীতে পেশোয়ারি খাবারের উৎসব

0 7

উৎসব বলে কথা। আর সেটা যদি হয় খাবারের। তাও আবার ভিনদেশি।তবে তো কোনো কথা থাকেই না। বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরাবরে মতো ভিন্ন স্বাদের খাবার তুলে ধরতে বিশেষ খাবারের উৎসব আয়োজন করেছে ভারতীয় রেস্টুরেন্ট খাজানা। ‘কাহানি এক সোয়াদ কি’ শিরোনামে গুলশানের ২ নম্বরে (বাড়ি নং এনডব্লউ (১)-৮, সড়ক নং ৫২) অবস্থিত অভিজাত রেস্টুরেন্ট খাজানায় চলছে সাতদিনের পেশোয়ারি খাবারের উৎসব।

উৎসবে যেমন মিলছে জিভে পানি আনা যেমন-পানিপুরি, চানাচাট, পাপড়িচাট তেমনি আছে ঝালযুক্ত মুখরোচক সব খাবার।তালিকা নেহায়েত কম নয় ৩০ পদের। মাছ, মাংস আর সবজির সমন্বয়ে এক ভিন্ন উৎসব। খাবারের তালিকা শুরুটা চিকেন সুপ্যের মধ্য দিয়ে আর শেষটা মিষ্টান্নের মধ্য দিয়ে। ‘পেশোয়ার’ এক পৌরাণিক শহর। এই স্থানটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে। তা ছাড়া এই অঞ্চলের খাবারের রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজারা এই ভূখণ্ডে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন। এর মাঝে কনিষ্ক, আফগান, শিখ ও ব্রিটিশরা কয়েক শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল শাসন করেন। পেশোয়ারের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাবারেও এদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। সংস্কৃতির একটা বড় অংশ জুড়ে আছে মুখরোচক সব খাবার। পরিবেশন করা থেকে শুরু করে রান্না প্রণালীও চলে পেশোয়ারের রীতিনীতি মেনে। তবে অনেকেরই এই খাবারের স্বাদ নেওয়া অনেকেরই সৌভাগ্য হয় না। তাদের কথা বিবেচনা করে এই উৎসবটি সাজানো হয়েছে।

ভারতের সোনার বাংলা হোটেলে থেকে আসা মাস্টার শেফ খাজানার আগত অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করছেন পেশোয়ার অঞ্চলের খাবার। লাইভ কুকিং স্টেশনে রাখা বিশাল খাসির রান থেকে পছন্দমাফিক মাংস কেটে নিয়ে তা ঘি দিয়ে ভেজে দিচ্ছেন শেফ ভোজনরসিকদের চাহিদা মোতাবেক।মিলছে ভেটকি মাছের তন্দুর। অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে- চাপলি কাবাব, কড়াই ফিশ, ডমফুক্ট বিরিয়ানি, রান্না করা সিকান্দারি রান, বারাহ কাবাব, ফিশ টিক্কা, মুর্গ মাখানি, পনির টিক্কা, ডাল বুখারা, পেশোয়ারি বিরিয়ানি, সবজি বিরিয়ানি, সবজি শিক, সবজি খাস্তা, মিক্সড ফ্রুটস তন্দুর, মিক্সড রায়তা। এসব খাবারের পাশাপাশি তালিকায় আরও রয়েছে পাঁচ রকমের রুটি। এ মধ্যে রয়েছে-নান বুখারা, পুদিনা পরাটা, ওনিয়ন খুলচা, রুমালি রুটি ও খাস্তা রুটি। টক আর ঝাল চেখে নেওয়ার পর শেষ পাতে মিষ্টি থাকবে না তা কি হয়। এই উৎসবের রয়েছে মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা যেমন-পিস্তাকো কুলফি, গরম গরম গোলাব জামুন ও রস মালাই।

পেশোয়ারি ফুড ফেস্টিভ্যাল নিয়ে খাজানার ডিরেক্টর (অপারেশন) অভিষেক সিনহা বলেন, ‘প্রায় দুই যুগ ধরে মানুষের ভিন্ন স্বাদের খাবার পরিবেশন করে আসছে খাজানা। এবারও ভিনদেশির ভিন্ন স্বাদের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।এবারের থিম পেশোয়ারি খাবার। বাংলাদেশের ভোজন রসিকদের পেশোয়ারের খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে এই আয়োজন। পেশোয়ারের খাবার বিশেষজ্ঞ একজন মাস্টার শেফের সরাসরি তত্বাবধানে এ সব খাবার তৈরি করা হচ্ছে। পেশোয়ার থেকে আনা মসলা দিয়েই রান্না হচ্ছে এই উৎসবের খাবার। স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে অল্প তেলে রান্না করা হচ্ছে।

আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১ টা পযন্ত চলবে এই ফেস্টিভ্যাল। ছুটির দিনগুলোতে রাখা হয়েছে লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থা। এসব খাবার চেখে দেখার জন্য খরচ পড়বে মাথাপিছু ১২৩৪ টাকা। একা কিংবা দলবল নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে একবার ঘুরে এসব খাবার চেখে আসতে পারবেন এই উৎসবে। প্রয়োজনে বুকিং দিয়েও আসতে পারবেন। পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে এখানে রয়েছে প্রাইভেট ডাইনিং রুম। আর কর্পোরেট ইভেন্টগুলোর জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। বিস্তারিত জানতে ও বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ:০১৭১১৪৭৬৩৭৯।