একটি গায়েবানা চেয়ার

0 4
নিউজ ডেস্কঃ এতদিন গায়েবানা নামাজের কথা শুনে আসলেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর, রবিবারে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে গায়েবানা চেয়ারের সাথে পরিচিত হওয়া গেল। গলা বড় করে ‘মহাসমাবেশ’ বলা হলেও আদতে সেখানে জনসমাগম ছিলো খুবই কম। একদিকে ছিলো বিএনপির নেতাকর্মী আর সমর্থকদের চেয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সংখ্যাধিক্য, অন্যদিকে ছিলো দলটির চেয়ারপার্সনের হাহাকার করা শূন্য চেয়ার।
রাজনীতি নিয়ে উ‌ৎসাহী অনেকেই এতে হাস্যরসের উপাদান খুঁজে পেয়ে ফেসবুকে তাদের মতামত জানিয়েছেন। এমনিতে বিরোধীদলের জনপ্রিয়তা সরকারে থাকা দলের চেয়ে বেশী হয়। কিন্তু বরাবরের মত বিএনপি এখানেও ব্যতিক্রম। তাদের মূল দাবী সব সময়ই ব্যক্তিস্বার্থ কেন্দ্র করে ঘুরপাক খায়। সরকার কিংবা বিরোধী দল; বিএনপি যে অবস্থানেই থাক না কেন, দেশ এবং দশের চেয়ে খালেদা জিয়া আর তারেক জিয়ার ভবিষ্য‌ৎ রক্ষাই বিএনপির মূল এজেন্ডা বলে বিবেচিত হয়। জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় তারা শুরুতে নি:সঙ্গ ফেরারী থেকে ক্রমেই হাসি-ঠাট্টার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দলের চেয়ারপার্সনের চেয়ার খালি রেখে বিএনপি আসলে কী প্রমাণ করতে চেয়েছে ?
১.খালেদা জিয়া মৃত; তাই তার চেয়ার খালি রাখা হয়েছে ?
২.চেয়ার খুব গরম তাই সেখানে কেউ বসতে পারছে না ?
৩.খালেদা জিয়া কখনই কোথাও চেয়ার ছাড়া বসেন না?
৪.চেয়ারই সকল ক্ষমতার উ‌ৎস ?
৫.চেয়ার নিজেই নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকার ?
আচ্ছা, খালেদা জিয়া যদি রবিবারের সমাবেশে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই শুধু চেয়ারে বসে থাকতেন না। নানান ধরণের এলোমেলো আবোল তাবোল বক্তব্যও রাখতেন। বিএনপি কী তাদের সমাবেশে গায়েবানা চেয়ারের মত কোন গায়েবানা মাইক্রোফোনের বন্দোবস্ত রেখেছিলো?
আপনি যদি পদার্থ বিজ্ঞান জানেন অথবা নাও জানেন, তবু একটা বিষয় জেনে থাকবেন। দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়া খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী। তিনি কীভাবে সেই চেয়ারে বসবেন?
শুরুর দিকেই পড়েছেন বিএনপির ক্রমেই হাস্যকর একটা রাজনৈতিক দলে রুপান্তরিত হয়ে যাওয়ার কথা। এর পেছনে সরকারকে যতটা দায় দেওয়া হয়; তার চেয়ে বেশী দায় বিএনপির নেতৃত্বের।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তাদের সমাবেশে বেশ কিছু অসংলগ্ন কথা বলে বরাবরের মতই নিজেকে ভাঁড় হিসেবে প্রমাণ করেছেন। রবিবারের ছোট এই সমাবেশে তার বক্তব্য ছিলো এমন- ‘অনেকে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন। সরকারও দুঃস্বপ্ন দেখে। দুঃস্বপ্ন দেখে সরকার বিএনপি-বিএনপি, খালেদা জিয়া-খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান বলে চিৎকার করে ওঠে’।
বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মহাসচিবের এই জাতীয় বক্তব্য শুনে বিস্ময়ে শিউরে উঠেছেন। অনেকেই মেলাতে পারেনি বিএনপির মত একটা দলের মহাসচিব কী করে এ জাতীয় ভাঁড়ের মত কথা বলতে পারেন। মেঠো বক্তৃতা আর ভাঁড়ামোর পার্থক্যটা খালেদা জিয়ার মত তিনিও কী ধরতে পারছেন না ?