‘ত্রিপুরা রাজ্যের সবথেকে বড় আর্থিক দুর্নীতির সাথে যুক্ত মুখ্যমন্ত্রী’

প্রাক্তন বিধায়ক গােপাল রায়

0 5

প্রসেনজিৎ দাস,আগরতলা প্রতিনিধিঃ কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের ঘােষিত গাইডলাইন অমান্য করে, বিনা টেণ্ডারেই রাজ্যের ৯৯৫.৯১ কিলােমিটার জাতীয় সড়ক সংস্কারের বরাদ দেওয়া হয়েছে ভারত সরকারের অধিগৃহীত সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডকে।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযােগ করেন রাজ্য কংগ্রেসের শীর্ষনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক গােপাল রায়। শ্রীরায়ের আরও অভিযােগ, এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সবথেকে বড় আর্থিক দুর্নীতি এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে রাজ্যের জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ এবং জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা গােপাল রায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নৈতিক দায় স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন।

গােপালৰাৰু সাংবাদিক সম্মেলনে আরও অভিযােগ উত্থাপন করে বলেন, আইন ও গাইডলাইন অমান্য করে দশ হাজার কোটি টাকার কাজের বরাত একটিমাত্র সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অথচ রাজ্য মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে কোনও আলােচনাই করা হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়া তাে দূরের কথা। কংগ্রেস নেতা শ্ৰীরায় বলেন, ভারত সরকারের জেনারেল ফিনান্সিয়াল রুলস ২০১৭ এবং ত্রিপুরা সরকারের ডেলিগেশন অব ফিনান্সিয়াল পাওয়ার্স রুলস ২০১৭, এই দুই আইনে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে বিনা টেণ্ডারে কোনও কাজের বরাত দেওয়া যাবে না। প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, গত ২৭ জুন। ২০১৮ দিল্লীর পরিবহণ ভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ এবং হাইওয়ে মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, মন্ত্রকের সচিব ওয়াই এস মালিক, কেন্দ্রীয় শীর্ষ আধিকারিক মনােজ কুমার এবং এস সি মণ্ডল। ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের উপদেষ্টা ভাই বিজয় ছিব্বার, চিফ ইঞ্জিনীয়ার (এন এইচ) রাজীব দেববর্মা এবং অ্যাডিশনাল চিফ ইঞ্জিনীয়ার (এন এইচ) সুব্রত বণিক। অন্যদিকে এন এইচ আই ডি সি এলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির অধিকর্তা ভি কে রাজাওয়াট। গােপালবাবুর দাবি, উক্ত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
পরবর্তী সময় গত ১০ জুলাই ২০১৮ মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা শ্ৰাছির উক্ত বৈঠকের বিস্তারিত আলােচনা ও সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে নােট দেন। নােটে আগামী চার বছরের মধ্যে যাবতীয় কাজ শেষ করার।কথা উল্লেখ করেছেন। গােপালবাবু আরও অভিযােগ করে বলেন, কী শর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একটি পি এস ইউকে এত বড় কাজের বরাত দেওয়া হলাে তাও বিনা টেণ্ডারে রাজ্যবাসী এর। কিছুই জানে না। শ্রীরায়ের দাবি, এই কাজ যদি রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে করা হতাে তাহলে রাজ্যের নয়শ কোটি টাকার মতাে আয় হতাে। তার মতে এটি সম্পূর্ণ নীতিবিরােধী কাজ এবং রাজ্যের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। তিনি এ ব্যাপারে সি বি আই তদন্তের দাবি জানান। প্রশ্ন হচ্ছে, গােপালবাবু যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গাইডলাইনের কথা বলেছেন, সেই গাইডলাইনেই স্পষ্ট উল্লেখ আছে একমাত্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে এবং এই বিপর্যয়ের কারণে জরুরিভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়ােজন পড়লে বিনা টেণ্ডারেই কাজের বরাত দেওয়া। যাবে। সাম্প্রতিককালে রাজ্যে কয়েক দফা বড় ধরনের বন্যা হয়েছে। এতে সারা রাজ্যের ছােটবড় সব সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেহাল হয়ে পড়েছে রাজ্যের সব রাস্তাঘাট।
এ ব্যাপারে গােপালবাবুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এক্ষেত্রে গােপালবাবু কেরালার বিপর্যয় হয়েছে মানলেও ত্রিপুরার বিপর্যয় মানতে চাননি। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে, কংগ্রেস নেতা নারু দত্ত, নারীনেত্রী লক্ষ্মী নাগ প্রমুখ।